June 25, 2026, 6:43 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
প্রায় দুই বছর ধরে সীমিত ভিসা কার্যক্রম, অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বাংলাদেশীদের জন্য আবারও ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। আগামী ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকরা পুনরায় ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর এ ঘোষণায় স্বস্তি ফিরেছে চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও ভ্রমণ সংশ্লিষ্ট হাজারো মানুষের মধ্যে।
গত কয়েক বছরে ভারত-বাংলাদেশ জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল পর্যটন ও স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ। প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি চিকিৎসা, ধর্মীয় দর্শন, শিক্ষা, ব্যবসা কিংবা অবকাশ যাপনের উদ্দেশ্যে ভারতে যেতেন। কিন্তু বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কারণে ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে ভিসা আবেদনকারীদের মধ্যে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা, আর ভারতগামী ভ্রমণ পরিকল্পনাও বারবার স্থগিত করতে হয় অনেককে।
এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন ঘোষণা দেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি জানান, আগামী ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য স্বাভাবিক ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। একই সঙ্গে মানবিক বিবেচনায় জরুরি মেডিকেল ভিসা সুবিধাও আগের মতো চালু থাকবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় অবস্থিত পাঁচটি ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন জমা নেওয়া হবে। পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য শহরেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ধাপে ধাপে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। তার এ বক্তব্যে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের গুরুত্বও উঠে এসেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমও সম্পন্ন করেছেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার। একই দিনে তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন। পরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বর্তমানে ভ্রমণপিপাসু মানুষ, চিকিৎসাপ্রত্যাশী রোগী, শিক্ষার্থী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। অনেকে ইতোমধ্যে ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছেন। ভিসা আবেদন গ্রহণ শুরুর দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভিসা সেন্টারগুলোতে আবেদনকারীদের চাপও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রশাসনিক ঘোষণা নয়; বরং এটি দুই প্রতিবেশী দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, আস্থা ও সম্পর্ককে নতুন গতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।